ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর মেডিকেলে যন্ত্রপাতি মেরামতে ৯ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের অভিযান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 13, 2026 ইং
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজে অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান। ছবির ক্যাপশন: ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজে অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান।

বিশেষ প্রতিনিধি, খবর সারাক্ষণ

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজে ৯ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামত না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়েছে—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় সরকারি অর্থের ব্যবহার, কাজের তদারকি এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযানকালে হাসপাতালের বিভিন্ন নথিপত্র ও কাজের বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা করে অনিয়মের সম্ভাব্য চিত্র পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কার্ডিওলজি বিভাগের নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামতের জন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, যন্ত্রপাতি মেরামত করে সচল অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল।

তবে অভিযোগ রয়েছে, যন্ত্রপাতি সচল না হওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৯ কোটি টাকার সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়। হাসপাতালের টেকনিশিয়ানদের বক্তব্যেও যন্ত্রপাতি সচল থাকা এবং মেরামতের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কাজের অগ্রগতি ও যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা যাচাই না করেই কীভাবে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হলো, সে বিষয়ে তৎকালীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য এবং বিল পরিশোধের পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

দুদকের অভিযানের সময় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তির বিষয়টিও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, কার্ডিওলজি বিভাগের প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারছেন না। ফলে অনেককে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের রোগীদের জন্য বাইরে পরীক্ষা করানোর ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

হাসপাতালের যন্ত্রপাতি অকেজো থাকা এবং রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করাতে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে উদ্বেগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এ ছাড়া কিছু কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের সঙ্গে বেসরকারি ক্লিনিকের আর্থিক স্বার্থের যোগসূত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। প্রমাণ ছাড়া কাউকে এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।

সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি মেরামতের জন্য বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়া রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ। তাই ৯ কোটি টাকার বিল পরিশোধ, মেরামতের কাজের বাস্তব অগ্রগতি, যন্ত্রপাতির বর্তমান অবস্থা এবং বিল অনুমোদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের ক্ষতি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

দুদকের অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য, তদন্তের অগ্রগতি এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা জরুরি।

খবর সারাক্ষণ | জনস্বার্থে নিরপেক্ষ সংবাদ


নিউজটি আপডেট করেছেন : Super Admin

কমেন্ট বক্স