ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহে এক তরুণীকে ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা ও ধর্ষককে এলাকাছাড়া করার জেরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাদ্দাম হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। খুনিদের মূল টার্গেট ছিলেন পান্থ নামের এক যুবক; তবে তাকে ফোনে না পেয়ে ফাঁদ পেতে সাদ্দামকে ডেকে এনে এ নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
নিহত সাদ্দাম ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ঘাতক মো. অন্তর (২০)-কে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আটক অন্তর কোতোয়ালী মডেল থানাধীন আকুয়া উত্তরপাড়া এলাকার মো. বিল্লালের ছেলে।
ঘটনার সূত্রপাত: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে এলাকার ফারুকের (ছদ্মনাম) বোনকে ঘরে একা পেয়ে অন্তর ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ওই সময় ভুক্তভোগী তরুণীর চিৎকারে সাদ্দাম, সুমন, পান্থসহ স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
তারা অন্তরকে হাতেনাতে ধরে মারধর করেন। ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি নিয়ে পুলিশি ঝামেলা বা মামলা করতে না চাইলে, এলাকার শান্তি রক্ষায় সাদ্দাম, সুমন ও পান্থ এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত অন্তর ও তার বাবাকে এলাকা থেকে বহিষ্কার করেন।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ছক:
এলাকা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর থেকেই চরম ক্ষোভে ফেটে পড়ে অন্তর ও তার পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে পান্থকে হত্যা করার নীল নকশা আঁকতে থাকে তারা। ঘটনার আগের দিন রাতে অন্তরের বাবা বিল্লাল, রাপেল, রাপেলের বোন লিপি, রাব্বি ও পলাশ একত্রিত হয়ে সারারাত পান্থকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোররাতে অন্তর, বিল্লাল, রাব্বি ও পলাশ চক্রটি রাপেল ও লিপির কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র সংগ্রহ করে অন্তরের বাসায় অবস্থান নেয়।
টার্গেট বদলে সাদ্দামকে ফাঁদ পেতে হত্যা:
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘাতক চক্রটি সকালে পান্থকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফোন করে ডেকে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু পান্থ সে সময় বাইরে আছেন জানালে তারা তাকে পায় না। এরপরই তারা দিক পরিবর্তন করে সাদ্দামকে টার্গেট করে। অন্তরের ভাবিকে দিয়ে কৌশলে সাদ্দামকে ফোন করে তাদের বাসায় ডেকে আনা হয়।
সাদ্দাম সরল বিশ্বাসে ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্রই ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যেই সাদ্দামের গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
ঘাতক আটক ও পুলিশি তৎপরতা:
হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে চক্রের বাকি সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও উপস্থিত এলাকাবাসী ঘাতক অন্তরকে ঘিরে ফেলে এবং গণধোলাই দিয়ে আটক করে। খবর পেয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অন্তরকে নিজেদের হেফাজতে নেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না-তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম জানান, মূল অভিযুক্ত অন্তরকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনার পেছনে পূর্বের ঘটনা ও প্রতিশোধের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।