বিশেষ প্রতিনিধি : যমুনা অয়েল পিএলসিতে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত শেখ জাহিদ। কিন্তু সেই জাহিদকে পদোন্নতি দেয়ার বন্দোবস্ত করেছে যমুনা অয়েল পিএলসি কর্তৃপক্ষ । ২ এবং ৩ রা অক্টোবর পরপর দুই দিন যমুনা অয়েল পিএলসি প্রধান কার্যালয় যমুনা ভবনে পদোন্নতি সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । সেই পদোন্নতি সভায় শেখ জাহিদকে এজিএম ( ডিবি) চলতি দায়িত্ব থেকে এজিএম পদোন্নতি দেয়ার সুপারিশের প্রস্তবনা রয়েছে ৷ অবশ্য গত বছরের পদোন্নতি সভাতেও তার নামের সুপারিশ ছিল , কিন্তু অনিয়ন ও দুর্নীতির কারনে তার পদোন্নতির বিষয়ে ঘোর আপত্তি তুলেছিল তৎকালীন পদোন্নতি সভার সদস্য জালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আসমা খাতুন । সেযাত্রায় তার পদোন্নতি আটকে গেলেও এবছর তাকে পদোন্নতি দেয়ার বিষয়টি অনেকটাই পাকাপোক্ত করে ফেলেছে যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ফতুল্লা ডিপোতে বিপুল পরিমাণ তেল গায়েবের বিষয়ে শেখ জাহিদ আহম্মদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে । উক্ত ডিপোর Tank-22 ও Tank-23-এর Calibration সংক্রান্ত অসঙ্গতি এবং ৩,৭৫,৪১৮ লিটার ডিজেলের Quantity Discrepancy-এর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নির্ধারণ না হওয়া আগেই তাকে পদোন্নতি পদোন্নতি দেয়ার বন্দোবস্ত করাতে খোদ প্রতিষ্ঠানটির ভিতরের সাধারন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভিতরে অসোন্তষ দেখা দিয়েছে।
ফতুল্লা ডিপোতে Tank-22 ও Tank-23-এর Calibration/Capacity Measurement সংক্রান্ত অসঙ্গতি এবং ডিজেলের Quantity Discrepancy-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইতোমধ্যে তদন্তের আওতায় এসেছে। প্রাপ্ত নথি ও তদন্তসংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফতুল্লা ডিপোতে দুই ধাপে যথাক্রমে ২,৬২,৮০৪ লিটার এবং ১,১২,৬১৪ লিটার, সর্বমোট ৩,৭৫,৪১৮ লিটার ডিজেলের Quantity Discrepancy-এর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, Tank-22-এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী Calibration Certificate-এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যের বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পরবর্তীতে সংশোধিত Calibration Chart অনুযায়ী পূর্ববর্তী হিসাবের তুলনায় প্রথম দুই চালানে ৭২,৮৩৮ লিটার এবং তৃতীয় চালানে ৪৪,০৭৯ লিটার অতিরিক্ত তেলের পরিমাণ পাওয়া যাওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া, তদন্তসংক্রান্ত প্রতিবেদনে Calibration কার্যক্রমের সময় BSTI বা ডিপোর কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকা এবং পরবর্তীতে Calibration Chart সংশোধনের বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
উক্ত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দায়িত্বের পরিধি, তদারকি, যাচাই-বাছাই, অনুমোদন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে supervisory responsibility যথাযথভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে প্রতীয়মান হয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনাব শেখ জাহিদ আহমেদ সংশ্লিষ্ট সময়ে ডিপো অপারেশন/সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে ছিলেন এবং তদন্ত কমিটির নিকট বক্তব্য প্রদান করেছেন।
তবে, শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট সময়ে দায়িত্বে থাকা বা তদন্ত কমিটির নিকট বক্তব্য প্রদানের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করা সমীচীন নয়। একইভাবে, তদন্তের ফলাফল ও দায়িত্ব নির্ধারণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পদোন্নতি কার্যকর করাও প্রশাসনিকভাবে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
Promotion Withholding-এর যৌক্তিকতা
এখানে প্রস্তাবিত Promotion Withholding কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে নয়; বরং তদন্তের নিরপেক্ষতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য একটি সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
বিশেষ করে—
১। সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রকৃত Quantity Discrepancy ও কারণ এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে নির্ধারণযোগ্য বিষয়;
২। Tank-22 ও Tank-23-এর Calibration সংক্রান্ত নথিতে সংশোধন ও পরিমাণগত পার্থক্যের বিষয় উঠে এসেছে;
৩। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও supervisory responsibility পৃথকভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে;
৪। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল ও সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা অধিকতর সমীচীন হবে।
অতএব, কোনো ধরনের পূর্বধারণা বা ব্যক্তিগত অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, বরং “দায়িত্ব নির্ধারণের পূর্বে পদোন্নতি কার্যকর না করা”নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হলে তা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। ফতুল্লা ডিপোর Tank-22 ও Tank-23-এর Calibration সংক্রান্ত অসঙ্গতি এবং ৩,৭৫,৪১৮ লিটার ডিজেলের Quantity Discrepancy-এর বিষয়ে তদন্ত ও দায়িত্ব নির্ধারণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত জনাব শেখ জাহিদ আহমেদের পদোন্নতি কার্যকর না রাখারবিষয়টি সদয় বিবেচনা করার আহবান জানান যমুনা অয়েলের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো পূর্বধারণা সৃষ্টি না করে তাঁর দায়িত্বকালীন Job Responsibility, Supervisory Responsibility, Approval/Verification এবং Monitoring Role নথিপত্রের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হোক।
এছাড়া Tank-22 ও Tank-23-এর পূর্ববর্তী ও সংশোধিত Calibration Certificate/Chart, BSTI Certification, Work Order, Measurement Sheet, Tank Dip Record এবং সংশ্লিষ্ট Technical/Inspection Report পর্যালোচনা করা হোক। সংশ্লিষ্ট সময়ের Receipt/Dispatch Records, Stock Statement, Inventory Reconciliation এবং Loss Statement যাচাই করে Quantity Discrepancy-এর প্রকৃত কারণ ও পরিমাণ নির্ধারণ করা হোক। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল ও সুপারিশের ভিত্তিতে জনাব শেখ জাহিদ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিষয়ে বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো দায়, অবহেলা বা দায়িত্বগত ত্রুটি প্রতীয়মান না হলে তাঁর পদোন্নতির বিষয়টি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পুনরায় বিবেচনা করা যেতে পারে৷ কিন্তু তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি কার্যকর না রেখে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত কররার আহবান জানান যমুনা অয়েল পিএলসি কর্মকর্তারা৷