ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মুক্তাগাছায় মাদকবিরোধী সভায় হামলার অভিযোগ, আহত ২

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 3, 2026 ইং
মুক্তাগাছার কাশিমপুর ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সভায় হামলার অভিযোগে থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগপত্র। ছবির ক্যাপশন: মুক্তাগাছার কাশিমপুর ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সভায় হামলার অভিযোগে থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগপত্র।
মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় মাদকবিরোধী ও চুরি প্রতিরোধে আয়োজিত সচেতনতামূলক সভায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাহমুদুল হাসান (৪২) ও তাঁর চাচা মোঃ মুজিবুর রহমান কাসেমী তালুকদার আহত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গত ২৫ অক্টোবর (রোববার) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ৯ নম্বর কাশিমপুর ইউনিয়নের ঝনকা বড় টেংগর এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিযুক্তরা বাদীর পাশের গ্রামের বাসিন্দা ও পূর্বপরিচিত। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন এবং মাদকের অর্থ জোগাড় করতে বিভিন্ন এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৩ অক্টোবর রাতে পাশের গোবিন্দপুর গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তার চুরির সময় ৬ ও ৭ নম্বর অভিযুক্তকে স্থানীয়রা আটক করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর মাদকবিরোধী ও চুরি প্রতিরোধে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে ২৫ অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে একটি সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, সভা চলাকালে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে তাঁকে ও উপস্থিত ব্যক্তিদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদী ও তাঁর চাচা এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাঁদের ওপর লোহার রড, বাঁশ ও কাঠের লাঠি দিয়ে হামলা চালান। এতে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। একপর্যায়ে ৫ নম্বর অভিযুক্ত লোহার রড দিয়ে বাদীর নাকে আঘাত করে হাড়ে গুরুতর জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১ নম্বর অভিযুক্ত বাদীর চাচার গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া ৩ নম্বর অভিযুক্ত বাদীর পকেট থেকে প্রায় ২ হাজার টাকা মূল্যের একটি বাটন আইটেল মোবাইল ফোন নিয়ে যান এবং ৮ নম্বর অভিযুক্ত তাঁর চাচার ব্যবহৃত একটি ডায়েন রানার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

বাদীর দাবি, তাঁদের ডাকচিৎকারে সাক্ষীসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাঁদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের চিকিৎসা দেন। চিকিৎসা ও পারিবারিক আলোচনার কারণে থানায় অভিযোগ দিতে বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন বাদী।

মুক্তাগাছা থানার এসআই রতন নাগ এই অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন বলে মোবাইল ফোনে সাংবাদিক প্রশ্নের উত্তরে নিশ্চিত করেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Super Admin

কমেন্ট বক্স