ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহ খাদ্য দপ্তরে অপারেটর জাকিরের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, দুদকে আবেদন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 3, 2026 ইং
ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। এ কার্যালয়ের এক কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে অর্থ আদায় ও দাপ্তরিক কাজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। ছবির ক্যাপশন: ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। এ কার্যালয়ের এক কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে অর্থ আদায় ও দাপ্তরিক কাজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর জাকির হোসেনকে ঘিরে ঘুষ, অর্থ আদায়, ডিলারদের হয়রানি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কয়েকজন ডিলারের দাবি, বিভিন্ন সরকারি খাদ্য কর্মসূচির বরাদ্দ, ফাইল অনুমোদন ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তাঁকে কেন্দ্র করে একটি অনিয়মের বলয় গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।


একজন সাধারণ কর্মচারীর বিরুদ্ধে এতসব অভিযোগ ওঠার পরও তিনি কীভাবে একই কর্মস্থলে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে অন্য কোনো কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


খাদ্য বিভাগের একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারি খাদ্য কর্মসূচির ডিলারদের বরাদ্দপত্র, বিল-ভাউচার এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে জাকির হোসেনের প্রভাব রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় অর্থ দাবি করা হয়।


এমনকি আদায় করা অর্থের একটি অংশ অন্য কারও কাছে পৌঁছায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির সম্পৃক্ততার স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।


ওএমএস (খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কয়েকজন ডিলার অভিযোগ করেছেন, তাঁদের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী—

১. ফাইলপ্রতি অর্থ দাবি: মাসিক বরাদ্দপত্র ও বিল-সংক্রান্ত ফাইলের কাজ সম্পন্ন করতে ২০০ টাকা করে দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

২. ট্রাকসেল কার্যক্রম: খোলাবাজারে চাল ও আটা বিক্রির জন্য প্রতিটি গাড়ি থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

৩. দায়িত্ব বণ্টনে অর্থ লেনদেন: সরকারি তদারকি কর্মকর্তা বা ট্যাগ অফিসারদের নির্দিষ্ট পয়েন্টে দায়িত্ব পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

৪. ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার: বড় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও ফাইল অনুমোদনের কথা বলে ডিলারদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগকারীদের ভাষ্য।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য যাচাই করা প্রয়োজন।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভুক্তভোগী ডিলার বলেন, খাদ্য অফিসে বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে তাঁদের অতিরিক্ত অর্থের চাপের মুখে পড়তে হয়।

তাঁর অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা, লাইসেন্স বাতিলের ভয় দেখানো এবং নিম্নমানের চাল সরবরাহের আশঙ্কা তৈরি করা হয়। এ পরিস্থিতিতে তাঁরা অনেকটা অসহায় বোধ করছেন।

ভুক্তভোগী ডিলারদের দাবি, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে দপ্তরের ভেতরে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।


ময়মনসিংহের সাংবাদিক ও দৈনিক খবর সারাক্ষণের সম্পাদক আমির হোসেন রেজা জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের দাবিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।


অভিযোগে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আদায়, দাপ্তরিক প্রভাব বিস্তার এবং সম্ভাব্য জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারীর বক্তব্য, একজন কর্মচারীর পক্ষে এককভাবে এত বড় পরিসরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠলে এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পদের উৎস এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাইয়েরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।



অভিযোগের বিষয়ে জানতে কম্পিউটার অপারেটর জাকির হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাহমুদুল হাছান বলেন, অপারেটর জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়মের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।


সরকারের খাদ্যবান্ধব ও সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির সঙ্গে অসংখ্য সাধারণ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা জড়িত। তাই এসব কর্মসূচির দাপ্তরিক কার্যক্রমে অনিয়ম বা অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।


স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করতে হবে। অভিযোগের সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকলে তাঁদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।


এখন প্রশ্ন, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য কী? দপ্তরের ভেতরে কোনো সংঘবদ্ধ অনিয়মের চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদন্তেই এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Super Admin

কমেন্ট বক্স