ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: এমপিপুত্র রিমান্ডে, দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
​নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামের (২৩) মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর পর নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামান মিন্টুকে আটক করে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক কোন্দল ও এমপির দুই ছেলের অনুসারীদের মধ্যকার বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে।  
​ঘটনার সূত্রপাত ও চিকিৎসাধীন মৃত্যু
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম। দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং পরবর্তীতে ধাওয়া করে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।  
​প্রাথমিকভাবে স্থানীয় হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ঢাকার একটি হাসপাতালে দীর্ঘ ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। শাকিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।  
​নিহতের আগে জিডি এবং রাজনৈতিক কোন্দলের অভিযোগ
​নিহত শাকিল হামলার আগেই নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন এবং এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন বলে জানা গেছে। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, তাঁর কিছু হলে যেন সেই জিডি অনুযায়ী মামলা করা হয়।
​স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের দুই ছেলে—নূরুজ্জামান মিন্টু এবং মাহমুদুজ্জামান সোহাগের আলাদা অনুসারী ও কর্মী বাহিনী রয়েছে। নিহত শাকিল এমপির ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক আধিপত্য ও দুই ভাইয়ের কোরামের মধ্যকার বিরোধের জেরে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  
​এমপির বড় ছেলে রিমান্ডে
​ঘটনার পর শাকিলের বাবা রবিউল করিম বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুজ্জামান মিন্টুকে হেফাজতে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেলে গুরুদাসপুর আমলি আদালতের বিচারক শুনানি শেষে তাঁকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে দাঁড়িয়ে নূরুজ্জামান দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।  
​এমপি আব্দুল আজিজের বক্তব্য
​মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি বলেন, "হামলার পর থেকেই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং চিকিৎসায় সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছি। তবে সে মারা যাবে এটা ভাবিনি।" তিনি আরও ঘোষণা করেন, "অপরাধী আমার সন্তান হোক আর যেই হোক, প্রকৃত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে যারাই দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।"  
​নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন
​একটি পৌর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দলের একজন সক্রিয় কর্মী হামলার শিকার হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হলেও কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জোরালো কোনো প্রতিবাদ বা বিবৃতি না আসায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ কর্মীদের প্রশ্ন—দলের দুর্দিনে কর্মীরা মাঠে জান বাজি ধরে রাজনীতি করলেও সংকটে বা বিপদে দল কেন তাদের পাশে দাঁড়ায় না?  
​এদিকে শাকিলের মরদেহ ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে গুরুদাসপুরে পৌঁছানোর পর স্থানীয় শহীদ সামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয় এবং পরে তাঁকে দাফন করা হয়। তবে জানাজা শেষে শোকমিছিল থেকে চাঁচকৈড় বাজারে একটি শপিং মলে ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনারও খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Khobor Sarakkhon

কমেন্ট বক্স