স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ: ব্রহ্মপুত্র নদের তীরঘেঁষা ময়মনসিংহের ক্রীড়া ঐতিহ্যের অন্যতম সাক্ষী ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠ। সেই চেনা সবুজ আঙিনায় উৎসবমুখর পরিবেশে গড়াল বাঙালির চিরচেনা জাতীয় খেলা কাবাডির মহারণ। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহে ‘১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশীপ-২০২৬’-এর ফাইনাল খেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ ১১ অক্টোবর (রবিবার) বিকেলে সার্কিট হাউজ মাঠে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে এই জমকালো ফাইনাল ম্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান ও ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই মাঠজুড়ে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় ও উৎসবের আমেজ লক্ষ করা যায়। উদ্বোধনের আগে অতিথিরা মাঠে নেমে ফাইনালিস্ট দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন এবং কুশল বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব এ. কে. এম. মাহবুবুল আলম এবং ময়মনসিংহের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট শিল্পপতি মনসুর আলম চন্দন।
এ ছাড়া জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্য, ক্রীড়া সংগঠক ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, “কাবাডি কেবল আমাদের জাতীয় খেলাই নয়, এটি বাংলার আবহমান সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। যুবসমাজকে সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে মাঠমুখী করতেই কমিউনিটি পুলিশের এই বিশেষ আয়োজন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, “পুলিশ ও সাধারণ জনগণের মধ্যকার সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে কমিউনিটি পুলিশিং নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ময়মনসিংহের ক্রীড়া ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অনুপ্রাণিত করতে এমন আয়োজন আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
মাঠে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি মনসুর আলম চন্দন ক্রীড়াঙ্গনে এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানি আয়োজকদের সাধুবাদ জানান।উদ্বোধনের পরপরই তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনাল খেলা শুরু হয়। রেফারি ও বিচারকদের নিয়ন্ত্রণে টানটান উত্তেজনায় দুই দল পয়েন্ট অর্জনে লড়াই চালিয়ে যায়, যা উপস্থিত হাজারো ক্রীড়ামোদী দর্শক করতালি ও উল্লাসে উপভোগ করেন।