ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নজরুলের মানবিক চেতনা ধারণ করতে হবে: ডিসি জাহিদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 18, 2026 ইং
চট্টগ্রামের ডিসি হিলে ‘নজরুল মুক্তমঞ্চ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রামের ডিসি হিলে ‘নজরুল মুক্তমঞ্চ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

ডিসি হিলে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘নজরুল মুক্তমঞ্চ’

মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়তে নজরুলকে শুধু স্মরণ করলেই হবে না, তাঁর আদর্শ ও মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ডিসি হিলে ‘নজরুল মুক্তমঞ্চ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে মুক্তমঞ্চটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক জানান, ১৯২৬ সালে কাজী নজরুল ইসলাম চট্টগ্রামে এসে ডিসি হিলে অবস্থান করেছিলেন। কবির সেই অবস্থানের শতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নজরুলচর্চার সুযোগ বাড়াতে মুক্তমঞ্চটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, “নজরুল এমন একজন কবি, যিনি মানবতাকে আরও বেশি প্রসারিত করেছেন। আমাদের নজরুলকে জানতে হবে, আরও বেশি জানতে হবে।”

নজরুলের সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, ধর্ম-বর্ণের বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে নজরুল মানুষের মিলন ও সম্প্রীতির কথা বলেছেন। তিনি যেমন ইসলামী সংগীত রচনা করেছেন, তেমনি লিখেছেন শ্যামাসংগীত। তাঁর সৃষ্টিতে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানের বার্তা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, নজরুলের সাহিত্য মানুষকে অন্যায়, বৈষম্য ও অসাম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামেও তাঁর লেখনী মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছে। বর্তমান সময়েও তাঁর সাম্য, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িকতার দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

নজরুলের আপসহীনতার প্রসঙ্গ টেনে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কবি নিজের বিবেক ও মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করেননি।

তিনি বলেন, “কোনো কিছুর কাছে তাঁর বিবেক কখনো পরাজিত হয়নি। পরাজিত বিবেক দিয়ে কোনো কিছু অর্জন করা যায়, কিন্তু সেই অর্জন দীর্ঘস্থায়ী হয় না।”

ডিসি হিলের সঙ্গে নজরুলের স্মৃতির কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, “১৯২৬ থেকে ২০২৬—ঠিক ১০০ বছর পর আমরা সেই স্মৃতিকে অম্লান করে ধরে রাখার চেষ্টা করছি।”

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের পরিচিত স্থানগুলোর একটি ডিসি হিল। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে এখানকার বিভিন্ন স্থাপনা জীর্ণ হয়ে পড়েছে। সেগুলো সংস্কার ও এলাকাটি নান্দনিকভাবে সাজানোর কাজ করছে জেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত পুরোনো মঞ্চকে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে।

ডিসি হিলের নজরুল স্কয়ারও সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, মেধা ও দক্ষতার পাশাপাশি তরুণদের মানবিক মূল্যবোধ ও বিবেকবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। নজরুলের জীবন ও সাহিত্য নতুন প্রজন্মকে সেই শিক্ষা দিতে পারে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই, আমাদের আগামী প্রজন্ম নজরুলকে ধারণ করবে, নজরুলকে লালন করবে। নজরুল যেভাবে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই চেতনায় তরুণ সমাজকে গড়ে তুলতে চাই।”

নির্মাণকাজ শেষ হলে নজরুল মুক্তমঞ্চে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন নিয়ে নিয়মিত চর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা চর্চার সুযোগ পাবেন এবং নতুন প্রজন্মও নজরুল সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হবে।

জেলা প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, নজরুলের ডিসি হিলে অবস্থানের শতবর্ষের স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন মুক্তমঞ্চটি চট্টগ্রামের নজরুলচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Super Admin

কমেন্ট বক্স