ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নকলা থানার জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকিতে পুলিশ, মাথার ওপর ঝুলছে মরিচা ধরা রড

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 30, 2026 ইং
জরাজীর্ণ নকলা থানা ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল, খসে পড়া পলেস্তারা ও ঝুলন্ত মরিচা ধরা রড দেখা যাচ্ছে। ছবির ক্যাপশন: জরাজীর্ণ নকলা থানা ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল, খসে পড়া পলেস্তারা ও ঝুলন্ত মরিচা ধরা রড দেখা যাচ্ছে।

বিশেষ প্রতিনিধি

শেরপুরের নকলা উপজেলায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনি সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে এবার খোদ পুলিশ সদস্যদেরই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নকলা থানার মূল প্রশাসনিক ভবন ও স্টাফ কোয়ার্টারের জরাজীর্ণ অবস্থায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেই অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন ও বসবাস করছেন।

ফাটল ধরা কলাম, ঝুলছে মরিচা ধরা রড

সরেজমিনে নকলা থানায় গিয়ে দেখা যায়, মূল ভবনের বিভিন্ন বিম, কলাম ও ছাদে ফাটল রয়েছে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে স্যাঁতসেঁতে ভাব, ড্যাম্প ও শেওলা জমেছে। কোথাও কোথাও দেয়ালের গায়ে আগাছাও দেখা গেছে।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ভবনের সিঁড়ি ও বারান্দার কিছু অংশ। এসব জায়গার পলেস্তারা খসে পড়ে ভেতরের মরিচা ধরা রড বেরিয়ে ঝুলছে। এতে দায়িত্ব পালন ও চলাচলের সময় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও ঝুঁকিতে পড়ছেন।

টিনশেড ব্যারাকে বৃষ্টির পানি, পলিথিনে ঢাকা বাসভবন

এসআই ও এএসআইদের জন্য নির্ধারিত টিনশেড ব্যারাকের অবস্থাও নাজুক। চালের টিনে একাধিক ছিদ্র থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভেতরে পানি পড়ে বিছানাপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

থানার আবাসিক ভবন এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বাসভবনের বিভিন্ন অংশও পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়েছে। বৃষ্টির পানি পলিথিনে জমে মশা ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সেবাগ্রহীতাদেরও ভোগান্তি

প্রতিদিন নকলা থানায় বিভিন্ন আইনি সেবা নিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ আসেন। কিন্তু ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা ও ছাদ দিয়ে পানি পড়ার কারণে বিশেষ করে বৃষ্টির সময় সেবাগ্রহীতাদের বসার ক্ষেত্রেও ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।

থানায় কর্মরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানান, ভবনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তারা নিয়মিত আতঙ্কের মধ্যে থাকেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এএসআই বলেন, “সারাদিনের দায়িত্ব শেষে বিশ্রাম নিতে গেলেও স্বস্তি পাওয়া যায় না। সবসময় মনে হয়, কখন ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়ে।”

এক এসআই বলেন, অতীতে ছাদের পলেস্তারা ও সিলিং ফ্যান খুলে নিচে পড়ে সহকর্মীরা আহত হয়েছেন বলে তারা জানিয়েছেন। এ কারণে প্রচণ্ড গরমেও ফ্যান চালাতে ভয় পান অনেকেই।

ওসি রিপন চন্দ্র গোপের বক্তব্য

নকলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, নির্মাণের সময় মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মূল ভবন ও টিনশেড ঘরগুলো বর্তমানে বসবাস ও দায়িত্ব পালনের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, থানার সদস্যরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। বিষয়টি তিনি শেরপুরের পুলিশ সুপারকে বিস্তারিত জানিয়েছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেয়েছেন।

দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পুলিশের

এ বিষয়ে শেরপুরের পুলিশ সুপার মুঠোফোনে জানান, নকলা থানার ভবনের ভগ্নদশার বিষয়টি তিনি অবগত। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং দ্রুত যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নকলা উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের আইনি সেবা ও নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নকলা থানা। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পুলিশ সদস্যদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, নকলা থানার বর্তমান ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি মূল্যায়ন করে দ্রুত সংস্কার অথবা আধুনিক ও নিরাপদ নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Super Admin

কমেন্ট বক্স