বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
বরিশাল জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) ওয়াহিদুল ইসলামকে ঘিরে ক্ষমতার অপব্যবহার, জমি দখল, চাঁদাবাজি, পদায়ন বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁর দায়িত্ব পালনকালের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলা এবং প্রশাসনিক পর্যায়ের বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযোগের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মামলার অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, বরিশালে পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের জমি দখল এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বলয় সক্রিয় ছিল। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ কিংবা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া ও হয়রানি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এসপি ওয়াহিদুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতে লিখিত অভিযোগ ও মামলা দায়েরের কথাও উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ
ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, তাঁর প্রভাবের কারণে পুলিশ প্রশাসনের স্বাভাবিক চেইন অব কমান্ডও বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশ্নের মুখে পড়ে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ওপর অনৈতিক বা বেআইনি নির্দেশ পালনের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হতো। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পদায়ন বাণিজ্যের অভিযোগ
বরিশাল জেলা ও আশপাশের বিভিন্ন থানায় ওসি, এসআই ও কনস্টেবল পদায়নকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, পেশাগত যোগ্যতার পরিবর্তে ঘনিষ্ঠ ও অনুগত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ থানায় পদায়নের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করা হয়েছিল। তবে পদায়ন বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এর সত্যতা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
নির্বাচনকেন্দ্রিক পক্ষপাতের অভিযোগ
জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলাকালে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, গ্রেপ্তার এবং হয়রানির ঘটনায় পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছিল। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত হয়ে থাকলে তার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের পরই বিষয়টির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওয়াহিদুল ইসলামকে বরিশাল থেকে প্রত্যাহার করে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করার তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে যে তথ্য প্রচারিত হয়েছে, সেগুলোর সরকারি প্রজ্ঞাপন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নথি দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ
ওয়াহিদুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী এবং নিকটাত্মীয়দের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ব্যাংকে সন্দেহজনক লেনদেন, ফ্ল্যাট ও প্লট ক্রয় এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালনা করে থাকলে তার আনুষ্ঠানিক নথি ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমেই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।
শেষ কথা
সাবেক এসপি ওয়াহিদুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের মধ্যে কিছু বিষয়ে মামলা, অভিযোগ কিংবা প্রশাসনিক অনুসন্ধানের কথা বলা হলেও প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা আদালতের চূড়ান্ত রায় বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
আইনি সতর্কীকরণ: আদালতের চূড়ান্ত রায় বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো অভিযোগ, দাবি বা অনুসন্ধানাধীন তথ্য হিসেবে বিবেচ্য। কোনো ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্যে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য বা প্রতিবাদ পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
Super Admin