ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় প্রাপ্যের ১২ গুণ জমি নামজারির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 26, 2026 ইং
মোহনগঞ্জের সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জমি নামজারি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ছবির ক্যাপশন: মোহনগঞ্জের সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জমি নামজারি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা:

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খালেদ হোসেনের বিরুদ্ধে কারসাজির মাধ্যমে এক ব্যক্তির প্রাপ্যের তুলনায় প্রায় ১২ গুণ বেশি জমি নামজারির (খারিজ) প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে একই দাগের অন্য মালিকেরা তাঁদের হিস্যার জমি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের রামজীবনপুর মৌজার বিআরএস খতিয়ান নম্বর ১৮২-এর বিআরএস দাগ নম্বর ২১৩-তে মোট জমির পরিমাণ ৩৮ শতাংশ। ওই দাগে হিস্যা অনুযায়ী সামছুদ্দিনের প্রাপ্য জমি ৩ দশমিক ১১ শতাংশ। তবে কয়েক বছর আগে তিনি ওই দাগের ৩৮ শতাংশ জমিই আব্দুস ছাত্তারের কাছে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তাঁর প্রাপ্য জমির তুলনায় প্রায় ১২ গুণ বেশি জমি বিক্রির বিষয়টি সামনে আসে।

একই দাগে সামছুদ্দিনের তিন ভাতিজি পদুনা খাতুন ওরফে পারভীন, জয়দুনা খাতুন ও জরিনা খাতুনেরও প্রায় সোয়া ২২ শতাংশ জমিতে হিস্যা রয়েছে বলে দাবি তাঁদের। তাঁদের অভিযোগ, সামছুদ্দিন নিজের হিস্যার অতিরিক্ত জমি বিক্রি করায় তাঁদের প্রাপ্য জমিও ওই বিক্রয় দলিলের আওতায় চলে যায়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, আব্দুস ছাত্তার জীবিত থাকাকালে তাঁর নামে ওই জমি নামজারি করা সম্ভব হয়নি। কারণ, বিক্রেতার হিস্যার তুলনায় অতিরিক্ত জমি দলিল করে দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অসামঞ্জস্য ছিল। এ কারণে একাধিক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ওই জমির নামজারির প্রস্তাব দিতে রাজি হননি বলেও দাবি তাঁদের।

পরে আব্দুস ছাত্তার মারা গেলে তাঁর ওয়ারিশদের নামে জমিটি নামজারি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত আগস্টে সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খালেদ হোসেনের মাধ্যমে আব্দুস ছাত্তারের ওয়ারিশদের নামে পুরো ৩৮ শতাংশ জমির নামজারির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেন তাঁরা। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের ওই নামজারি অনুমোদন করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

তবে এর আগে গত জুলাইয়ে ওই দাগের জমির মালিক জরিনা খাতুন জমিটি অন্যের নামে নামজারি না করার অনুরোধ জানিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছিলেন বলে জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, আবেদনটি আমলে না নিয়েই পরবর্তী সময়ে নামজারির প্রস্তাব দেওয়া এবং তা অনুমোদন করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জমির হিস্যা, পূর্বের দলিল ও ওয়ারিশদের স্বত্ব যথাযথভাবে যাচাই করলে সামছুদ্দিনের প্রাপ্যের অতিরিক্ত জমি বিক্রির বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কথা। কিন্তু এসব যাচাই-বাছাই না করেই নামজারির প্রস্তাব ও অনুমোদন দেওয়ায় প্রকৃত মালিকেরা তাঁদের জমির অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পদুনা খাতুন ওরফে পারভীন বলেন, “আমাদের প্রাপ্য জমি থাকা সত্ত্বেও অন্যের নামে পুরো দাগের জমি নামজারি করে দেওয়া হয়েছে। সামছুদ্দিনের যতটুকু জমি পাওয়ার কথা, তার চেয়ে অনেক বেশি জমি তিনি বিক্রি করেছেন। আমরা বিষয়টি জানিয়ে প্রতিকার চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা আমলে নেওয়া হয়নি।”

নামজারির বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে কম্পিউটার অপারেটর হৃদয় তাঁদের নেত্রকোনায় গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন বলেও অভিযোগ করেন পারভীন।

জরিনা খাতুন বলেন, “জমিটি যাতে অন্যের নামে নামজারি না করা হয়, সে জন্য আমি জুলাই মাসেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছি। এরপরও কীভাবে পুরো জমি অন্যদের নামে নামজারি হলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যার জমি ফেরত চাই।”

তবে কম্পিউটার অপারেটর হৃদয় মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খালেদ হোসেন বলেন, “নামজারিতে কোনো অনিয়ম হলে সেটি বাতিল করে দেওয়া হবে।” তবে কারসাজি করে নামজারির প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের প্রশিক্ষণে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি অবহিত করা হলে মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, “কাগজপত্রগুলো পাঠান, দেখি। নামজারিতে অনিয়ম হলে নামজারি বাতিলসহ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভুক্তভোগীদের দাবি, নামজারি প্রক্রিয়াটি পুনরায় যাচাই করে বিক্রেতার প্রকৃত হিস্যা, সংশ্লিষ্ট দলিল ও ওয়ারিশদের স্বত্ব যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৃত মালিকদের জমির অধিকার নিশ্চিত করা হোক।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Super Admin

কমেন্ট বক্স