ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মিথ্যা বিয়ের আশ্বাস ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ: আসিফের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি বিক্রিরও অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 10, 2026 ইং
ডিএনএ পরীক্ষায় সন্তানের পিতৃত্ব প্রমাণের পরও বিয়ে ও ভরণপোষণের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগ; মামলা হওয়ার পর পলাতক থাকার দাবি ছবির ক্যাপশন: ডিএনএ পরীক্ষায় সন্তানের পিতৃত্ব প্রমাণের পরও বিয়ে ও ভরণপোষণের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগ; মামলা হওয়ার পর পলাতক থাকার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

২০১৮ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়। এরপর প্রেমের সম্পর্ক এবং বিয়ের আশ্বাস। সেই সম্পর্কের একপর্যায়ে এক তরুণী গর্ভবতী হন। এরপর থেকেই তার জীবনে শুরু হয় নানা জটিলতা ও মানসিক চাপ। এমনই অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রামের তরুণী নাহিদা হক মুনা। তার অভিযোগের তীর কাওছার আজীম আসিফ নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর তিনি গর্ভবতী হলে আসিফ তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দিতে থাকেন। তবে তিনি এতে রাজি না হয়ে সন্তানের জন্ম দেন। সন্তান জন্মের পর আসিফ পিতৃত্ব অস্বীকার করলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে পরীক্ষার প্রতিবেদনে কাওছার আজীম আসিফকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয় বলে ভুক্তভোগীর দাবি। এরপর আদালতের মাধ্যমে একটি সমঝোতা হয়। ওই সমঝোতায় আসিফ সন্তান ও তার মাকে সামাজিক ও আইনি মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি ভরণপোষণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন বলে অভিযোগ।

তবে ভুক্তভোগীর দাবি, প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও আসিফ বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখেন। এর মধ্যে তিনি একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ করেন ওই তরুণী। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হতো এবং একপর্যায়ে আসিফ যোগাযোগ বন্ধ করে দিতেন বলে তার অভিযোগ।

দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর ওই তরুণী অন্য একজনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগ, তখন আবারও আসিফ তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। তবে এতে সফল না হয়ে তিনি প্রতিশোধমূলক আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার আগের সন্তান থাকার বিষয়টি আসিফ তার হবু শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানিয়ে দেন। একই সঙ্গে আসিফের সঙ্গে তার অতীতের কিছু অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে নির্ধারিত বিয়েটি মাত্র নয় দিনের মধ্যে ভেঙে যায় বলে দাবি করেন তিনি।

এরপরও আসিফ তাকে পুনরায় বিয়ে ও সংসার করার আশ্বাস দেন বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগীর দাবি, একপর্যায়ে তার অজান্তে বিভিন্ন সময় আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরবর্তীতে সেসব ভিডিও বিদেশি পর্নোগ্রাফি ও নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটে বিক্রি করা হয়েছে। এভাবে প্রায় শতাধিক ভিডিও ধারণ ও বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, সন্তান হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে আসিফ তাকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে যেতেন। সেখানেই কৌশলে এসব ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলে তার দাবি।

গত ১৬ আগস্ট আসিফের সঙ্গে একটি হোটেলে রাত কাটানোর পরদিন, অর্থাৎ ১৭ আগস্ট, নগরীর বহদ্দারহাট ফরিদার পাড়া এলাকায় আসিফ অন্য এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন বলে জানতে পারেন নাহিদা হক মুনা। তার অভিযোগ, ওই বিয়ের সময় আসিফ নিজের ছয় বছরের কন্যাসন্তান ও আগের সম্পর্কের বিষয়গুলো গোপন করেন।

বিষয়টি জানার পর নাহিদা হক মুনা আসিফের মৌলভী পাড়া, বিউটি ম্যানশনের বাসায় যান বলে জানান। সেখানে আসিফ তাকে বিয়ে করার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বাসা থেকে চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর দাবি, নিজের ও সন্তানের অধিকার নিয়ে কথা বলার সময় আসিফ তাকে গোপনে ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনাকে তিনি ব্ল্যাকমেইল হিসেবে উল্লেখ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পরবর্তীতে স্থানীয় থানায় এবং আদালতে মামলা দায়ের করেন বলে জানান নাহিদা হক মুনা। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মামলা দায়েরের খবর জানার পর থেকেই আসিফ পলাতক রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল এবং পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ভুক্তভোগীর দাবি, কাওছার আজীম আসিফের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সাইবার ট্রাইব্যুনালসহ মোট তিনটি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা বন্দর থানা পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং অন্য একটি মামলা সিআইডি তদন্ত করছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কাওছার আজীম আসিফের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Super Admin

কমেন্ট বক্স