ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নকশা অনুমোদন ছাড়া নির্মাণে সতর্ক করল চউক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 11, 2026 ইং
অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মাণকাজ ও ভবনের অননুমোদিত ব্যবহার বন্ধে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। ছবির ক্যাপশন: অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মাণকাজ ও ভবনের অননুমোদিত ব্যবহার বন্ধে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) আওতাধীন এলাকায় অনুমোদিত নকশা ছাড়া কোনো ধরনের নির্মাণকাজ শুরু না করার জন্য সতর্ক করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবনের ব্যবহার পরিবর্তন, পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান বা অফিস নির্মাণ এবং আবাসিক এলাকায় অননুমোদিতভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার বিরুদ্ধেও সতর্ক করা হয়েছে।

চউকের এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এবং এর সংশোধনী আইন, ১৯৮৭ অনুযায়ী নির্মাণকাজ শুরুর আগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নকশা অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।

এ আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প স্থাপনা ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি অফিস, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য। তবে প্রতিরক্ষা স্থাপনা এ নির্দেশনার আওতার বাইরে।

ক্রয় বা ভাড়ার আগে নকশা যাচাইয়ের আহ্বান

বিজ্ঞপ্তিতে ইমারত, দোকান, অফিস স্পেস বা ফ্ল্যাট কেনা, ভাড়া নেওয়া কিংবা সেলামি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাটি চউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে কি না, তা যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চউক জানিয়েছে, অনুমোদিত নকশায় গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে কোনো ধরনের ভবন, দোকানপাট বা অফিস স্পেস নির্মাণ করা যাবে না। একই সঙ্গে পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গায় নির্মিত বা নির্মাণাধীন কোনো দোকান বা অফিস স্পেস ভাড়া না নেওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।

দোকান, অফিস, ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনা কিংবা ভাড়া নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভবনটি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে কি না, তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সেটব্যাক ও ভবনের তলা বাড়ানো যাবে না

চউকের অনুমোদিত নকশায় নির্ধারিত সেটব্যাকের মধ্যে কোনো নির্মাণকাজ করা যাবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ভবনের তলা ও ফ্ল্যাটের সংখ্যা বৃদ্ধি করাও নিষিদ্ধ।

অনুমোদিত নকশায় যে ধরনের ব্যবহার উল্লেখ রয়েছে, তার বাইরে ভবন ব্যবহার করা যাবে না বলেও জানিয়েছে চউক। বিশেষ করে চউক অনুমোদিত পরিকল্পিত আবাসিক এলাকায় কোনো ধরনের অনাবাসিক ব্যবহার করা যাবে না।

আবাসিক ভবনে স্কুল-হাসপাতাল পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহানগরীর মাস্টার প্ল্যানের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদিত নকশার ব্যবহার পরিবর্তন করে নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে, যা ইমারত নির্মাণ আইনের পরিপন্থী।

বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—

১. আবাসিক ভবনের পরিবর্তিত ব্যবহার করে স্কুল ও কলেজ পরিচালনা,
২. আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার পরিবর্তন করে হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনা,
৩. আবাসিক বা বাণিজ্যিক স্থাপনায় কনভেনশন সেন্টার পরিচালনা।

চউক বলেছে, বিধিবহির্ভূতভাবে ভবনের ব্যবহার পরিবর্তন করে এসব কার্যক্রম পরিচালনার কারণে ভবিষ্যতে কোনো ভবন ভেঙে ফেলা বা অপসারণের প্রয়োজন হলে আর্থিক ক্ষতির দায় সংশ্লিষ্ট ক্রেতা, বিক্রেতা, ভাড়াটিয়া ও জায়গার মালিককে বহন করতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে এবং ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন ও চউকের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Super Admin

কমেন্ট বক্স