মো. মনিরুজ্জামান, ময়মনসিংহ ব্যুরো:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পৌর শহরের বাজারসংলগ্ন শিমরাইল ১ নম্বর মোড়ে পারিবারিক বণ্টনে পাওয়া একটি দোকানঘর ও জমি দখলমুক্ত করতে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে একটি এতিম ও অসহায় পরিবার। ভাড়াটিয়াদের টালবাহানা এবং স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখলের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (০৪ নভেম্বর) ভুক্তভোগীরা জানায়, ২০২০ সালের ১০ আগস্ট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নান্দাইল সড়ক উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দোকানটির অর্ধেক অংশ সিএমবি (সওজ) জায়গার ওপর পড়েছে মর্মে তা সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ দেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে ভুক্তভোগীরা যথাসময়ে দোকানটি সরাতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে দোকানের পেছনের পুকুরটি ভরাট করে পাকা দোকান তোলার উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করার সময় ভাড়াটিয়াদের দোকান ছেড়ে দিতে বলা হলে তারা কিছু মৌখিক সময় নেয়। কিন্তু কিছু দিন পর তারা দোকান না ছেড়ে উল্টো স্থানীয় শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. খলিলুর রহমান বাচ্চুর শরণাপন্ন হন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই রাজনৈতিক নেতা নিজের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এবং জমি নিজের দখলে রয়েছে বলে প্রমাণ করতে ভুক্তভোগীদের চাচা আক্কাস আলীর কাছ থেকে একটি বায়নাপত্র দলিল সম্পাদন করে নেন। অথচ শিমরাইল মৌজার ২৭০ নম্বর খতিয়ানে আক্কাছ আলী তাঁর প্রাপ্য পরিমাণের চেয়েও অতিরিক্ত জমি আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা ময়মনসিংহের বিজ্ঞ ঈশ্বরগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে ২২৯৩/২৬ অন্য প্রকার মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করায় পরিবারটি অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগী ইমন হাসান বলেন, ‘আমার বাবা ভাগের এই জমি পেয়েছেন এবং আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু আমার চাচা আক্কাস আলী গোপনে এক নেতার কাছে এই জমি বায়না করে দিয়েছেন। অথচ সবার ভাগে ১ একর ৬৮ শতাংশ জমি পড়ার কথা থাকলেও তিনি ইতিমধ্যেই তাঁর প্রাপ্য পরিমাণের চেয়ে বেশি প্রায় ১ একর ৮৩ শতাংশ জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন আমাদের এই সম্পত্তি নিয়ে নানা পায়তারা করছেন। বিএনপি নেতা মো. খলিলুর রহমান বাচ্চু সহ ৪ জন আমাদের বাটোয়ারা ও ক্রয়কৃত জমির চৌহদ্দির উপর জমি বায়না করছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।’
আরেক ভুক্তভোগী বৃষ্টি আক্তার বলেন, ‘আমার বাবা মারা গেছেন। আমাদের চাচারা সবাই ভালো হলেও এক চাচা আমাদের সাথে এমন অন্যায় করছেন। আমরা যদি ভাগের চেয়ে বেশি জমি পেতাম, তবে একটা কথা থাকত। তিনি আগেই নিজের হিস্যার চেয়ে বেশি জমি বিক্রি করেছেন, আর এখন আমাদের অংশ থেকে বায়না দলিল করে দিয়েছেন। যারা এই বায়না করেছেন, তারা অসৎ উদ্দেশ্যে তা করেছেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো: আবু কালাম ও উসমান আলী জানান, এই জমি দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীরাই ভোগদখলে রেখে আসছেন। এখন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য এই পাঁয়তারা করছেন। আক্কাস আলী তাঁর প্রাপ্য সম্পত্তির পরিমাণের চেয়ে বেশি জমি ইতিমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন, বায়না করার আগে তাঁর তো জেনেই নেওয়া উচিত ছিল কার অংশে কতটুকু জমি রয়েছে। এতিমদের সম্পত্তি নিয়ে এমন অবিচার মেনে নেওয়া যায় না।
এদিকে, অভিযুক্ত বিএনপি নেতার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
Super Admin