
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহ জেলা ট্রাফিক বিভাগের প্রসিকিউশন শাখায় কর্মরত মুন্সি কনস্টেবল কং/১৯৬৫ মো. ফারুক আহম্মেদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক মামলার কাগজ নিষ্পত্তি ও জব্দ করা গাড়ি ছাড়ানোর ক্ষেত্রে সাধারণ চালক ও গাড়ির মালিকদের হয়রানি এবং ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রসিকিউশন শাখায় ট্রাফিক মামলার কাগজপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কনস্টেবল ফারুকের কাছে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়। ফলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা পরিশোধের পরও অনেক চালককে বারবার অফিসে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ট্রাফিক মামলায় নির্ধারিত জরিমানার অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর চালক ও মালিকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে প্রসিকিউশন শাখায় যান। সেখানে ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ।
কেউ কথিত অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্ব করা এবং দিনের পর দিন অফিসে ঘোরানোর মাধ্যমে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
স্থানীয় কয়েকজন পরিবহন চালক ও গাড়ির মালিক অভিযোগ করেন, সরকারি নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধের পরও যদি অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের দাবি, এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তাদের আরও দাবি, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে সাধারণ চালকদের হয়রানি কমার পাশাপাশি পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থাও বজায় থাকবে।
অভিযোগকারী ও স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টরা কনস্টেবল কং/১৯৬৫ মো. ফারুক আহম্মেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের জন্য জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তারা জেলা পুলিশ সুপার, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) গোলাম মাওলা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস ও ট্রাফিকের অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. আশরাফুল করিমের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে কনস্টেবল মো. ফারুক আহম্মেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।