
নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিবারের সুখের আশায় বছরের পর বছর প্রবাসে কাটাচ্ছেন স্বামী। নিজের প্রয়োজনের কথা না ভেবে উপার্জনের অর্থ স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য পাঠিয়েছেন। তবে সেই সংসারে এখন নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। চার সন্তানের জননী স্ত্রী শানু আক্তারকে স্থানীয় এক যুবক প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গেছেন—এমন অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।
ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শামলাপুর নয়াপাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযোগের পর থেকে চার সন্তান মায়ের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে প্রবাসী স্বামী দিলদার মিয়া স্ত্রীকে ফিরে পেতে সহযোগিতা চেয়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, শামলাপুর নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী আলা উদ্দিনের সঙ্গে চার সন্তানের জননী শানু আক্তারের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে আলা উদ্দিন শানু আক্তারকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় একই এলাকার শহিদ (৩০) ও আবুল ফয়েস (২৮) নামের আরও দুই ব্যক্তি আলা উদ্দিনকে সহযোগিতা করেছেন। তবে তাদের ভূমিকার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
শানু আক্তারের স্বামী দিলদার মিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। তার দাবি, পরিবারের ভবিষ্যৎ ও সন্তানদের কথা চিন্তা করে তিনি বছরের পর বছর বিদেশে থেকে উপার্জন করেছেন এবং উপার্জনের অধিকাংশই স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য পাঠিয়েছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে দিলদার মিয়া বলেন, “নিজের জন্য কিছু রাখিনি। যা আয় করেছি, পরিবারের জন্য দিয়েছি। এখন আমি সব হারিয়ে ফেলেছি। আমার চার সন্তান মায়ের জন্য কান্না করছে। সন্তানদের দিকে তাকিয়ে হলেও আমি আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে চাই।”
তিনি আরও জানান, স্ত্রীকে খুঁজে পেতে কেউ সহযোগিতা করলে সামর্থ্য অনুযায়ী পুরস্কার দেওয়ার কথাও বলেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রবাসীরা পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়তে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকেন। এ সময় কোনো পরিবারে এমন ঘটনা ঘটলে স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি সন্তানদের জীবনেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তাদের দাবি, অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। শানু আক্তারের অবস্থান শনাক্ত করে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে শানু আক্তার স্বেচ্ছায় কোথাও গেছেন কি না, তাকে কেউ প্রলোভন দেখিয়েছে বা জোরপূর্বক নিয়ে গেছে কি না—এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে অভিযুক্ত আলা উদ্দিন, শহিদ ও আবুল ফয়েসের বক্তব্যও পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।
চার সন্তান এখন অপেক্ষা করছে মায়ের ফেরার। আর প্রবাসে থাকা দিলদার মিয়া অপেক্ষা করছেন তার সংসার আবার ফিরে পাওয়ার আশায়।