প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 5, 2026 ইং
ময়মনসিংহে থামছে না নারী বেচাকেনা: পুলিশের নাকের ডগায় পাচারচক্র, ধরাছোঁয়ার বাইরে নাছিমা-লাভলীরা

বিশেষ প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহে কবে বন্ধ হবে নারী বেচাকেনা ও মানবপাচারের এই রমরমা কারবার? আর এর দায়ভারই বা কার? নগরীর কেন্দ্রস্থলে রমেশ সেন রোডের পতিতাপল্লী যেন এখন ভয়ংকর মানবপাচার চক্রের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। অভিযোগের পর অভিযান হয়, পাচার হওয়া নারী উদ্ধারও মেলে; কিন্তু অলৌকিক ক্ষমতাবলে মূল হোতারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সর্বশেষ গত ৩ নভেম্বর নগরীর রমেশ সেন রোডের পতিতাপল্লীর ৩ নম্বর বাড়ীর সর্দারনী নাছিমার ঘর থেকে পাচার হয়ে আসা এক নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। কোতোয়ালী মডেল থানাধীন ১ নম্বর ফাঁড়ির ইনচার্জ মহি উদ্দিনের নেতৃত্বে দিনদুপুরে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে পাচারের শিকার নারীকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রহস্যজনকভাবে সর্দারনী নাছিমাকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
এ ঘটনায় সর্দারনী নাছিমার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২–৩ জনকে আসামি করে মানব পাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং: ১৩, তারিখ: ০৪/১১/২০২৬ইং)। তবে বরাবরের মতোই মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পতিতাপল্লীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নারী পাচারকারী সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এর আগে এই পল্লীর অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রক লাভলীসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হলেও তারা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে গভীর সখ্য ও অনৈতিক যোগসাজশের সুযোগ নিয়েই এসব অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন—যখনই কোনো নারী উদ্ধারের খবর আসে, তখনই ‘অদৃশ্য ক্ষমতার বলে’ কীভাবে সর্দারনী ও মূল অপরাধীরা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়? আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকায় ময়মনসিংহ অঞ্চল আজ নারী পাচারকারীদের স্বর্গরাজ্যে রূপ নিয়েছে। এই অভিশপ্ত সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক খবর সারাক্ষণ