
নিজস্ব প্রতিনিধি, মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর):
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় সরকারি ডরমিটরি বরাদ্দ, গ্যাস সংযোগ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সরকারি ডরমিটরিতে অন্যের নামে বরাদ্দ নেওয়া কক্ষে বসবাস, অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার এবং টিআর-কাবিখাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি।
সরকারি বিধি অনুযায়ী, সরকারি কোয়ার্টার বা ডরমিটরিতে বসবাসের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মে কক্ষ বরাদ্দ এবং ভাড়া পরিশোধের বিধান রয়েছে। তবে কক্ষ বরাদ্দের অফিস আদেশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মতলব দক্ষিণ উপজেলা অফিসার্স ডরমিটরির ৩০৪ নম্বর কক্ষে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বসবাস করছেন পিআইও মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
অভিযোগ রয়েছে, কক্ষটি বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে অন্য এক কর্মকর্তার নামে এবং ভাড়াও কর্তন করা হচ্ছে তাঁর নামেই। অথচ বরাদ্দপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তা ওয়াপদা স্টাফ ডরমিটরিতে বসবাস করেন বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারি আবাসন বরাদ্দের নিয়ম এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ডরমিটরিতে রান্নার কাজে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া পুরোনো ভবন থেকে নতুন ডরমিটরিতে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও মেস বিলের কাগজপত্রের বরাতে অভিযোগ করা হয়েছে, পিআইও আনোয়ারুল ইসলাম এবং যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মুহসীন এই সংযোগ ব্যবহার করে আসছেন। তবে সংযোগটি কে স্থাপন করেছেন এবং এর বৈধতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলার টিআর, কাবিখা, কালভার্ট নির্মাণ এবং এইচবিবি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পিআইও কার্যালয়ের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডিঙ্গাভাঙ্গা স্কুলসংলগ্ন একটি ব্রিজ নির্মাণের কয়েক দিনের মধ্যেই এর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে। পরে ওই অংশ সংস্কারের জন্য কাবিখা ও টিআর প্রকল্প থেকে পুনরায় বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আল-আমিন ফরাজি, কামাল ফরাজি ও আফসার নামে কয়েকজনের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রকল্পের নথিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এইচবিবি সড়ক নির্মাণেও নির্ধারিত মান অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সড়কের নিচে নিয়ম অনুযায়ী ৬ ইঞ্চি বালু ফিলিং করার কথা থাকলেও কোথাও ১ থেকে ২ ইঞ্চি বালু ব্যবহার করা হয়েছে। একইভাবে সোলিংয়ের কাজে প্রথম শ্রেণির ইটের পরিবর্তে ইটের আধলা ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
এসব অনিয়মের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থের অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নকশা, প্রাক্কলন, বিল-ভাউচার এবং সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করলে কিংবা অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি পূরণ না করলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
এদিকে সরকারি ডরমিটরি বরাদ্দ, গ্যাস সংযোগ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের মতে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই, সরেজমিন পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে আনা জরুরি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে পিআইও মো. আনোয়ারুল ইসলামের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।